জামান আহমেদ নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার আকাশে এখন বিশ্বকাপের রং। অলিগলি, ছাদ, বারান্দা আর ব্যস্ত সড়কের পাশে উড়ছে নানা দেশের পতাকা। ফুটবলের মহাযজ্ঞকে ঘিরে রাজধানী যেন পরিণত হয়েছে এক টুকরো বিশ্বগ্রামে। বড়দের উন্মাদনার সঙ্গে এবার রঙিন এই উৎসবে মেতে উঠেছে শিশুরাও।
রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নার্সারির ছাত্র জাইন আরহাম। বয়স খুব বেশি নয়, ফুটবলের নিয়ম-কানুনও এখনো ঠিকমতো বোঝে না সে। অফসাইড কী, কর্নার কেন হয় কিংবা কোন দল কতবার বিশ্বকাপ জিতেছে—এসব তার জানার কথা নয়। তবুও বিশ্বকাপের আবহ তাকে ছুঁয়ে গেছে গভীরভাবে।
প্রিয় দলের জার্সি গায়ে জাইন যখন বাসার বারান্দায় দাঁড়ায়, তখন তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে অন্যরকম উচ্ছ্বাস। টেলিভিশনের পর্দায় খেলোয়াড়দের দৌড়াতে দেখে সেও হাততালি দেয়, গোল হলে আনন্দে লাফিয়ে ওঠে। খেলার জটিলতা না বুঝলেও উৎসবের আনন্দটা সে ঠিকই বুঝতে পারে।
জাইনের মা বলেন, “খেলা সম্পর্কে ওর খুব বেশি ধারণা নেই। কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই জার্সি পরতে চায়। টিভিতে খেলা দেখার সময় খেলোয়াড়দের মতো দৌড়ানোর চেষ্টা করে। ওর আনন্দ দেখেই আমাদের ভালো লাগে।”
শুধু জাইন নয়, রাজধানীর অসংখ্য শিশুর কাছে বিশ্বকাপ মানে রঙিন জার্সি, পতাকা, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলা আর পরিবারের সঙ্গে খেলা দেখার আনন্দঘন মুহূর্ত। তাদের কাছে বিশ্বকাপ কোনো পরিসংখ্যানের হিসাব নয়, বরং এক নির্মল উৎসবের নাম।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ছোট ছোট শিশুরা প্রিয় দলের পতাকা হাতে ছবি তুলছে। কেউ আর্জেন্টিনা, কেউ ব্রাজিল, কেউ আবার অন্য কোনো দলের জার্সি পরে নিজেদের মতো করে বিশ্বকাপ উদযাপন করছে। বড়দের আবেগ আর শিশুদের সরল আনন্দ মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য পরিবেশ।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হয়তো এখানেই। এটি শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই নয়; এটি প্রজন্মকে এক সুতোয় গাঁথার গল্প। যেখানে একজন অভিজ্ঞ সমর্থকের আবেগ আর জাইন আরহামের মতো একটি শিশুর নিষ্পাপ হাসি একই উৎসবের অংশ হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের এই মৌসুমে তাই ঢাকার আকাশে শুধু পতাকাই উড়ছে না, উড়ছে স্বপ্ন, উচ্ছ্বাস আর আনন্দের রঙও। আর সেই রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে ছোট্ট জাইন আরহামের মতো হাজারো শিশুর শৈশব।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |