নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাব্য শক্তিঘর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে কক্সবাজার সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক মানের উন্নয়ন পেলে দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম—এমনটাই মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পর্যটনকে অর্থনীতির প্রধান খাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। যেমন থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া কিংবা বালি—যেখানে নির্দিষ্ট টুরিস্ট জোন গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও বিনোদন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে এসব দেশ প্রতিবছর বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারকে আলাদা টুরিস্ট জোন ঘোষণা করে আধুনিক মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশও একই ধরনের সাফল্য অর্জন করতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, সমুদ্রতট সুরক্ষা, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, স্মার্ট সিটি সুবিধা ও পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট নির্মাণ জরুরি। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা ট্যুরিস্ট পুলিশ, বহুভাষিক গাইড, জরুরি চিকিৎসা ও রেসকিউ সেবা চালু থাকলে বিদেশি পর্যটকদের আস্থা বাড়বে।
পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্লাস্টিকমুক্ত সৈকত, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং বালিয়াড়ি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এছাড়া অভিজ্ঞতাভিত্তিক পর্যটন চালু করে ওয়াটার স্পোর্টস, আন্তর্জাতিক সার্ফিং প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক উৎসব ও সামুদ্রিক খাদ্য মেলার আয়োজন করা গেলে কক্সবাজারে পর্যটকদের অবস্থানকাল ও ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) ভিত্তিক বিনিয়োগ, কর-প্রণোদনা ও দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবেন। সুশাসন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে কক্সবাজারকে একটি মডেল টুরিস্ট জোনে রূপান্তর করা গেলে এটি বাংলাদেশের জন্য ‘সোনার খনি’ হয়ে উঠতে পারে।
সমন্বিত উদ্যোগ ও দূরদর্শী পরিকল্পনা থাকলে কক্সবাজার শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |