মোঃ মনির হোসেন সরকার গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর না থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবক ও স্বজনদের মধ্যে। বিশেষ করে হাসপাতালে এনআইসিইউ (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট) না থাকায় জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০ জন। তবে এখনো কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য ১০ তলায় মাত্র ৪টি কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় বেড সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ফ্লোরে বিছানা পেতে গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে এনআইসিইউ না থাকায় গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, “হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের সক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ। এ কারণে বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, যদিও এনআইসিইউ নেই, তবে icddr,b উদ্ভাবিত একটি বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান, মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৪০৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৫৬ জন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৩ জন।
এদিকে জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, ২০ এপ্রিল থেকে জেলায় ব্যাপক হারে হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জেলার ৯৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ২৩৪টি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৬৮ জন শিশুকে এই টিকা প্রদান করা হবে।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |