রাতের আকাশে যখন ক্ষেপণাস্ত্রের আগুন ছুটে যায়, তখন কেবল একটি দেশের সীমান্ত কাঁপে না—কেঁপে ওঠে পুরো মানবসভ্যতা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল–এর উত্তেজনা এখন আর শুধু কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ নয়; এটি পরিণত হয়েছে এক অগ্নিগর্ভ বাস্তবতায়। প্রতিটি হুঁশিয়ারি, প্রতিটি সামরিক মহড়া, প্রতিটি পাল্টা হুমকি বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছে এক অজানা অন্ধকারের দিকে।
ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে দেয়। ১৯৩৯ সালে জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল কেবল একটি সীমান্ত সংঘাতের বিস্তার—কিন্তু তার ফল ছিল ভয়াবহ। প্রায় ৫ থেকে ৮ কোটি প্রাণহানি, অসংখ্য শহর ধ্বংসস্তূপ, কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত। মানবতার বুক আজও সেই ক্ষত বয়ে বেড়ায়।
আজকের পৃথিবী আরও জটিল, আরও অস্ত্রসমৃদ্ধ। একটি ভুল বোঝাবুঝি, একটি আবেগঘন সিদ্ধান্ত—মুহূর্তেই পরিস্থিতিকে বিস্ফোরণে রূপ দিতে পারে। আর এই বিস্ফোরণ শুধু বোমার শব্দে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা ছড়িয়ে পড়বে অর্থনীতিতে, খাদ্য সরবরাহে, জ্বালানি বাজারে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
আগুন লাগলে পুড়বে সবার ঘর
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্ব জ্বালানির প্রাণকেন্দ্র। যুদ্ধ ছড়ালে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হবে, বাজার অস্থির হবে, কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ—যারা প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালায়—তাদের কাঁধেই পড়বে সবচেয়ে বড় বোঝা। যুদ্ধক্ষেত্র দূরে হলেও তার তাপ পৌঁছে যাবে প্রত্যেক ঘরে।
বিভক্ত মুসলিম বিশ্ব: ঐক্যের আহ্বান নাকি বাস্তবতার দেয়াল?
মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের কথা বারবার উচ্চারিত হলেও বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র দেখায়। অতীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধ–এর সময় যেমন বিভক্তি ছিল—সৌদি আরব ও কুয়েত একদিকে, আর সিরিয়া ও লেবানন অন্যদিকে। আজও সেই ভিন্ন স্বার্থ, ভিন্ন নিরাপত্তা কৌশল, ভিন্ন কূটনৈতিক অবস্থান একক সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তুলেছে।
এখনো সময় আছে
বিশ্বযুদ্ধ হঠাৎ করে শুরু হয় না—তা ধীরে ধীরে জমে ওঠে, অবিশ্বাস ও প্রতিশোধের আগুনে। কিন্তু ইতিহাস এটাও বলে, সাহসী ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব চাইলে যুদ্ধ ঠেকানো যায়।
শেষ কথা
যুদ্ধের আগুনে কোনো বিজয় নেই—আছে কেবল মায়ের কান্না, শিশুর আতঙ্ক, শরণার্থীর দীর্ঘশ্বাস। আজ মানবসভ্যতা এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন একটাই—আমরা কি আবারও ইতিহাসের ভুল পুনরাবৃত্তি করব, নাকি ধ্বংসের আগে থেমে গিয়ে শান্তির পথ বেছে নেব?
পৃথিবী তাকিয়ে আছে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |