মোঃ মনির হোসেন সরকার গাজীপুর প্রতিনিধি:
সমাজের প্রচলিত ভেদাভেদ ভুলে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়ে তিনি কুড়িয়েছেন সর্বমহলের প্রশংসা।
জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিয়ামত সড়ক এলাকার বাসিন্দা রতন বাসফোর, পেশায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তার মা-হারা মেয়ে, কলেজছাত্রী প্রীতি রানী বাসফোরের বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন জেলা প্রশাসক। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন একজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আনন্দের আবহ তৈরি হয় এবং হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে নেমে আসে খুশির জোয়ার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা দেশে খুবই বিরল। সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা একটি জনগোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে একজন জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি সমাজে সমতা ও মানবিকতার শক্ত বার্তা বহন করে। অনেকেই এটিকে ভেদাভেদ দূর করার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
হরিজন সম্প্রদায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, যাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। সমাজের নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রতন বাসফোর তার মেয়েকে শিক্ষিত করেছেন। বর্তমানে প্রীতি রানী একটি মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “বাংলাদেশে ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী বা পেশা নির্বিশেষে সবাই সমান। কোনো কাজই ছোট নয়। আমাদের উচিত সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মান করা এবং একসাথে এগিয়ে যাওয়া।”
তিনি আরও বলেন, গাজীপুরকে একটি সমতা ও সম্প্রীতির জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহরিয়ার নজির এবং সহকারী কমিশনার মো. মাশরাফিকুর রহমান আবরার উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের এ ধরনের অংশগ্রহণ সামাজিক বৈষম্য দূর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
গাজীপুরে সুইপারের মেয়ের বিয়েতে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি শুধু একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং এটি সমাজে সমতা, সম্মান ও মানবিকতার শক্ত বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। “পদ নয়, মানুষ বড়ো”—এই কথার বাস্তব উদাহরণ হয়ে থাকলো এই ঘটনা।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |