| বঙ্গাব্দ
ad728
ad728

নরসিংদীর রায়পুরায় ভূমিদস্যু ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে ডিজিটাল নামজারির জালিয়াতি — আইন-শৃঙ্খলা ও মালিকানা নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি

রিপোর্টারের নামঃ নিজস্ব প্রতিবেদক-১
  • আপডেট টাইম : 12-03-2026 ইং
  • 608 বার পঠিত
নরসিংদীর রায়পুরায় ভূমিদস্যু ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে ডিজিটাল নামজারির জালিয়াতি — আইন-শৃঙ্খলা ও মালিকানা নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি
ছবির ক্যাপশন: রায়পুরা উপজেলা ভূমি অফিস

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হোসেননগর মৌজায় বৈধভাবে নামজারিকৃত জমির ওপর সংঘবদ্ধ একটি চক্র দ্বিতীয়বার অবৈধভাবে ডিজিটাল নামজারি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী সৈয়দ আমজাদ হোসাইনের দাবি, স্থানীয় ভূমিদস্যু আব্দুল লতিফ মিয়া এবং ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে, যা ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ আমজাদ হোসাইন ২০২০ সালে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হোসেননগর মৌজার (জে.এল. নং: ১১৯, আর.এস. খতিয়ান: ২৭৭১, দাগ নং: ১৩৪৫৩ ও ১৩৭৮১) মোট ৩৭ শতক জমির নামজারি সম্পন্ন করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত খাজনা পরিশোধসহ শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল লতিফ মিয়া (পিতা: মৃত রমজান আলী মিয়া) আবেদন নং: ১১৬৮৪০৮৯ ব্যবহার করে একই জমির ওপর দ্বিতীয়বার অবৈধভাবে ডিজিটাল নামজারি করিয়ে নেন। বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, তার আবেদনে মোট ২২টি দাগ উল্লেখ করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কেবল ভুক্তভোগীর দুইটি দাগেই। ভুক্তভোগীর মতে, এটি পরিকল্পিত প্রতারণার সুস্পষ্ট প্রমাণ।

এই জালিয়াতির সঙ্গে রায়পুরা উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি), হোসেননগর মৌজার দায়িত্বপ্রাপ্ত কানুনগো এবং পাড়াতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল বাসেদ ভূঁইয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

সৈয়দ আমজাদ হোসাইন বলেন, “আমার বৈধ ডিজিটাল নামজারি থাকার পরও দ্বিতীয়বার নামজারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা আইন লঙ্ঘন করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়, বরং পুরো ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রায় ১৫ বছর আগে আব্দুল লতিফ মিয়া মোঃ হযরত আলী নামের এক ব্যক্তির কাছে এই জমি বিক্রি করে হস্তান্তর করেন। কিন্তু পরে নাবালক ভাইবোনদের অজুহাতে দলিল সম্পন্ন না করে জমির মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে পুনরায় জমিটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী আরও জানান, তিনি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে ঘুষ দাবি করেন এবং হুমকিস্বরূপ বলেন, “উপর মহলের নির্দেশেই এই নামজারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

ভুক্তভোগী সৈয়দ আমজাদ হোসাইন প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন—

১. অবৈধ নামজারি অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

২. পূর্বের বৈধ নামজারি বহাল রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে করা নামজারি বাতিল করা।

৩. জমি দখলের চেষ্টা চালানো চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও যদি প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ad728
ad728
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাংলা | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় নিউজ বাংলা