গোবিন্দপুর, সরিষাবাড়ি | নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসমাইল হোসেন
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে জমে উঠেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার গোবিন্দপুর বাজার। তবে এই আয়োজন শুধু খেলা দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন নেশা থেকে দূরে রাখতে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে বাজারে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোবিন্দপুর বাজারের প্রধান সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে একটি এলইডি জায়ান্ট স্ক্রিন। খেলা শুরুর অনেক আগ থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শক এসে জড়ো হন। চায়ের দোকান, হোটেল ও বাজারজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রিয় দলের প্রতিটি আক্রমণ, গোল ও জয়ের মুহূর্তে দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাজার।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি এবং মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলবেঁধে খেলা দেখার মাধ্যমে যুবকদের মধ্যে ইতিবাচক সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠছে বলে তারা মনে করেন।
এই আয়োজনে এলাকার মুরব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সহযোগিতা করছেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বড় পর্দা, সাউন্ড সিস্টেম এবং দর্শকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এলাকার প্রবীণরা বলেন, “যুবকরা যদি খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে তারা মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আমরা একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী শামিম বলেন, “আগে রাতের দিকে বাজারে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বেশি হতো। এখন খেলা দেখতে মানুষ আসে, চায়ের বিক্রিও বেড়েছে। বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
খেলা দেখতে আসা শিক্ষার্থী রাহাদ, পরাণ, মুরাদ ও সাব্বিরের মধ্যে ব্রাজিল সমর্থক রাহাদ বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখার আনন্দই আলাদা। সবাই একসঙ্গে খেলা দেখি, আনন্দ করি। এতে সময় ভালো কাটে এবং খারাপ কোনো কাজে জড়ানোর সুযোগ থাকে না।”
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ইসমাইল বলেন, “আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক, আর আমার অনেক ছাত্র ব্রাজিলের। খেলা নিয়ে আমাদের সুস্থ প্রতিযোগিতা হয়, কিন্তু কোনো বিভেদ নেই। খেলাধুলা তরুণদের ইতিবাচক পথে রাখে, এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়া উচিত।”
আয়োজকরা জানান, বিশ্বকাপ শেষ হলেও বড় পর্দায় নিয়মিত ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচ প্রদর্শনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গোবিন্দপুর বাজারের এই উদ্যোগ শুধু বিশ্বকাপের আনন্দই বাড়ায়নি, বরং তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এলাকাবাসী উদ্যোগটিকে প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় বলে অভিহিত করেছেন।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |