মোঃ মনির হোসেন সরকার, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রত্যন্ত মাওনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিমলাপাড়া, আটলাপাড়া, শিরিশ খরা ও বদনীভাঙ্গা গ্রামের ৬৮০ জন প্রান্তিক নারী পেয়েছেন সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সুবিধা। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত এ জনপদে কার্ড বিতরণকে ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকেলে বদনীভাঙ্গা হান্নান জনসেবা সংঘ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
এর আগে একই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কেন্দ্রীয়ভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন। এর ধারাবাহিকতায় গাজীপুর জেলায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া উপকারভোগী নারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ডিজিটাল কার্ড ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি সহজ ভাষায় কার্ডের ব্যালেন্স যাচাই ও মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে ধারণা দেন।
জানা গেছে, কৃষিনির্ভর ও অনগ্রসর এ এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রার মান তুলনামূলকভাবে নিম্ন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশে পাইলট প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে মাওনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে জেলা সমাজসেবা বিভাগ মাঠপর্যায়ে জরিপ ও যাচাই-বাছাই শেষে ৬৮০ জন যোগ্য নারীকে নির্বাচিত করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও পুনঃযাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেন।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডধারী প্রত্যেক নারী প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই অর্থ সরাসরি তাদের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এই অগ্রাধিকার প্রকল্প প্রান্তিক মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বদনীভাঙ্গার মা-বোনদের মুখের হাসিতেই এর সফলতা প্রতিফলিত হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মতিউর রহমান, সহকারী পরিচালক এটিএম তৌহিদ উদ জামানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
নতুন কার্ড হাতে পেয়ে উপকারভোগী নারীদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। তাদের ভাষ্য, এই সহায়তা কঠিন সময়ে সংসার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুর্গম ও অরণ্যঘেরা এ জনপদের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এখন শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং একটি নিরাপদ ভবিষ্যতের আশার প্রতীক।
| ফজর | ৫.৩০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ টা বিকাল |
| মাগরিব | ৬ টা সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |